সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়

বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাণ ফেরাল শিক্ষার্থীরা

  • আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
বিদ্যালয়ের মাঠে প্রাণ ফেরাল শিক্ষার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার ::
শাল্লা উপজেলার গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে শিক্ষার্থীরা। গত তিন বছর ধরে দিরাই-শাল্লা সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বালু, পাথর রেখে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত করে খেলার মাঠটি দখলে নিয়েছিল। তারা নির্মাণসামগ্রী রেখে মাঠটিকে খেলাধুলার অনুপযোগী করে ফেলে রেখে যায়। দিনের পর দিন বালু, পাথর রাখার কারণে মাঠ খেলাধুলার জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।
গত জুন মাসে মাঠে ভিটবালু ফেলে খেলাধুলার উপযোগী করে দেয়ার কথা থাকলেও, কথা রাখেনি সড়কের পুনঃর্নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন। এমনকি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আবারও দু’বছরের জন্য মালামাল রাখতে এলাকায় মাইকিং করে অভিভাবক সভার আয়োজন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জানাযায়, ওই সভায় মাঠ সংস্কারের কথা না বলে আবারও মাঠে মালামাল রাখার দাবি করে বসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এনিয়ে গত ২৬ জুলাই গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত সভায় চলে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক। এক পর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বলেন, আমরা দু’বছর পর আড়াই লাখ টাকা দিব। কিন্তু অভিভাবকদের পক্ষে কেউ একজন প্রস্তাব করেন পাঁচ লাখ টাকার। পরে এনিয়ে একটি বোর্ড গঠনও করা হয়। বোর্ডেও ৫ লাখ টাকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়নি। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নিয়ে এমন দরকষাকষি চলতে থাকে। ফলে ওই সভায় দু’বছরের জন্য মাঠ ভাড়ার বিষয়ে উভয়পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে মাঠ সংস্কারে নেমে পড়েন। সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উড়া-কোদাল নিয়ে গিরিধর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বালু, পাথর সরানোর কাজ করছেন। তারা নিজেরা কাজে হাত লাগানোর পাশাপাশি নয়জন শ্রমিককেও কাজে লাগান।
দুপুরের খাবারও তাদেরকে উন্মুক্ত মাঠেই খেতে দেখা যায়। বিকেলে তারা আনন্দপুর বাজার থেকে বাঁশ এনে গোলপোস্টও তৈরি করে ফেলেন। দিনব্যাপী উৎসাহ উদ্দীপনার নিয়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার মাঠকে সংস্কার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, এক সপ্তাহ তারা প্র্যাকটিস করবে। এরমধ্যে মাঠটিকে আরও সংস্কার করতে চায় তারা। কারণ, মাঠে ড্রামট্রাক দিয়ে মালামাল নেয়ার সময় অনেক গর্ত হয়ে গেছে। এসব ঠিক করতে কিছু বালুর প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক পরে তারা একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে সিলেট জজকোর্টের আইনজীবী সুব্রত দাশ বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেলাধুলা শিক্ষার সাংঘর্ষিক নয়। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ইজারা দেয়ার জন্য নয়, এটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য। খেলার মাঠ নিয়ে যেন কোনো বাণিজ্য না হয়। একারণে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে মাঠ সংস্কারের ডাক দিয়েছে। আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য সিলেট থেকে আজ এসেছি। তারা গোলপোস্টও তৈরি করেছে। মাঠে আমিও তাদের সহযোগিতা করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন দ্রুত মাঠ সংস্কার করে দেয়। যেনতেনভাবে নয়, মাঠকে মাঠের মতো করে দিতে হবে। এখন সংস্কার না করলে ৭ লাখ টাকার দাবি জানান তিনি। এদিকে, মাঠ সংস্কারের যাবতীয় খরচ বহন করেন অ্যাডভোকেট সুব্রত দাশ। এছাড়া মাঠ সংস্কারের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ মোহন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের চা-বিস্কুটও খেতে দেন।
এ বিষয়ে পুনর্নির্মাণাধীন দিরাই-শাল্লা মহাসড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সুখরঞ্জন বলেন, হেমন্ত সিজনে মাঠ সংস্কারের চেষ্টা করবে তারা। কারণ, এখন ভিটবালু পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে মাঠে খেলাধুলা করার বিষয়টি জানানোর জন্য এসেছিল। তাদেরকে বলেছি তোমরা যদি খেলাধুলা করতে চাও - তাহলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কাউকে ব্যবহার করতে দেব না। আমি তাদেরকে খেলাধুলা করার জন্য একটি ফুটবলও দিয়েছি। আমি ঠিকাদারকে বলব দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠটিকে খেলাধুলার উপযোগী করে দেয়ার জন্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স